সারা বাংলা

খাগড়াছড়িতে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

খাগড়াছড়িতে চলতি বোরো মৌসুমের অভ্যন্তরীণ ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর খাদ্য গুদামে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” কৃষকদের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার বিষয়ে সরাসরি প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং মিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৪৮ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ১ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন ধান এবং ৪৭৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ।

গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। কমলছড়ি গ্রামের কৃষক নিমান্টু চাকমা বলেন, “আমি ৩ মেট্রিকটন ধান এনেছি। আমি ৬ একর জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। গুদামে মাত্র ৩ মেট্রিক টন ধান নিচ্ছে। পরিমাণ বাড়লে আরো ভালো হতো।” 

পেরাছড়া গ্রামের কৃষক সোমেন চাকমা বলেন জানান, তিনি ৭ একর জমিতে ধান চাষ করেছেন।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জ্ঞান প্রিয় বিদর্শী চাকমা বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা।