বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের সাতদিন পর হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মধ্যরাত ১টার দিকে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করেন নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মারা যাওয়ারা হলেন- ইতি রানী (৩৪) ও তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডাকবাংলো থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এর আগে, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা দাবি করেছিলেন, এটি পরিকল্পিত আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা তাদের। একই সুরে কথা বলেছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা।
বিষয়টা নিছক আত্মহত্যা মানতে নারাজ ছিল স্বজনরা। ইতি রানী ও তার দুই মেয়েকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছিলেন ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। এমনকি, থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগ, থানায় মামলা করতে না পেরে আদালতে গিয়েও মামলা করতে পারেননি তিনি।
মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে বরগুনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নেয়নি। রবিবার আদালতে মামলা করতে গেলেও আদালত মামলা আমলে না নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর অজানা কোনো কারণে সোমবার রাতে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়। তবে, মামলায় জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার লিটনকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ লিটনের নামে মামলা রুজু করতে রাজি হয়নি। সবশেষ অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করতে হয়।”
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি না, পুলিশ আমাদের বিভ্রান্ত করছেন কি না। আমরা মামলা করতে গিয়ে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর নামে কালবিলম্ব করছে মামলার ক্ষেত্রে।” সবশেষ মামলা নিতে রাজি হলেও অজ্ঞাতনামা আসামি করতে তাকে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি তার। শেষে অজ্ঞাতনামা আসামি করেই মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
বরগুনা সদর থানার ওসি আবদুল আলীম বলেন, “দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজু করেছি আজকে। যদিও এই ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ৩ জুন রাতেই।”
গত ৩ জুন বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষ থেকে পরিছন্নতাকর্মী ইতি রাণী এবং তার মেয়ে আরাধা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্তে বিলম্ব ও মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা এবং বিচারহীনতা দাবি করে মরদেহ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন স্বজনরা।