সারা বাংলা

৫৭ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দুলাল

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে বিরল পুনর্মিলনের ঘটনা। হারিয়ে যাওয়ার প্রায় ৫৭ বছর পর দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী খুঁজে পেয়েছেন পরিবার ও শেকড়ের ঠিকানা।

পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় একটি পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হতে থাকেন। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে উঠলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অজানাই থেকে যান তিনি। বহু বছর পর তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন।

সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সংকটের প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সেই অনুসন্ধান। একপর্যায়ে গেল কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র। এর মধ্যে ছিল নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরোনো নিদর্শনগুলোর মিল পাওয়া যেতে থাকে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন, বাড়ির পুরোনো গেট, খালপথ, আমগাছ এবং ‘লবণ তোলা ঘাট’ নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একই সঙ্গে জানা যায়, একসময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৭ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী তার নিজ পরিবারে ফিরে এসে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনাটিকে একদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।

দেলোয়ারের ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব বলেন, “ডিএনএ টেষ্ট ছাড়াই আমরা আমাদের আত্মীয়দের সন্ধান পেলাম। এখন মনে খুব শান্তি লাগছে।”