ক্যাম্পাস

মনিরুল হকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ইবি-চবিতে মানববন্ধন

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়াবাদী ছাত্রদলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব-নিকাব নিয়ে করা বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানানোর দাবি জানান।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল প্রতিবাদী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।

চবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রীতিলতা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নাদিয়া সুলতানা তাসনিয়া বলেন, “আইডেন্টিফিকেশনের জন্য হিজাব-নিকাব বাধা—এ ধরনের বক্তব্য শুনে বিস্মিত হতে হয়। জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য হিজাবি ও নিকাবি নারী অংশগ্রহণ করেছেন। এখন ক্ষমতায় গিয়ে সেই হিজাব-নিকাবকে কটাক্ষ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য নিঃসন্দেহে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।”

চবি শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সেক্রেটারি ও চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে ‘বউ বদল’-এর সঙ্গে তুলনা করে যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। একইসঙ্গে তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষের মুখে ফেলেছেন। আমরা আশা করি, তিনি অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশের নারী সমাজের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের অসংখ্য নারী হিজাব-নিকাব পরিধান করেন। অনেক ক্ষেত্রে শুধু এই পোশাকের কারণেই তাদের কটাক্ষ, বৈষম্য কিংবা হেনস্তার শিকার হতে হয়। এমন বাস্তবতায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আরো উদ্বেগজনক।”

অন্যদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে সম্মিলিত নারী শিক্ষার্থীরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ৩৪ সদস্যের মধ্যে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র নারী সদস্য এবং তিনি পর্দানশীন পোশাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তারা আরো বলেন, অতীতেও হিজাব ও নিকাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিতর্কিত মন্তব্য দেখা গেছে। তবে সেসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এবার সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তার প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান তারা।

ইবির ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, “সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় নারী এমপিদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটূক্তি করেছেন। একইসময়ে সরকারদলীয় নারী এমপিদের কেউ কেউ তা সমর্থন করেছেন বলেও আমরা দেখেছি। সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, আর ইসলাম ধর্মেও পর্দার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সংসদে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তির পোশাক বা ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে কটাক্ষ করার সুযোগ নেই।”

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তির পোশাক নির্বাচনের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

[সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে প্রতিবেদনটি করা।]