বহুল প্রত্যাশিত কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এ কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃষিকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, “এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যমান সেবার পাশাপাশি নতুন নতুন সময়োপযোগী সেবা যুক্ত করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালানো হবে। এর পর ধাপে ধাপে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ ও একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নির্বাচিত ২২ হাজার ৬৫ কৃষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জনই ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এসব কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষিযন্ত্র, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।