সারা বাংলা

হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যা : রায় পাঠ চলছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চাঞ্চল্যকর চার শিশু হত্যা মামলার রায় পাঠ শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান আদালতে রায় পাঠা শুরু হয়। এর আগে গতকাল চার শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন এই আদালত। ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র। ১৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দ্রাটিকি গ্রামের কাজল মিয়া নদীর পাশে মাটি কাটতে গিয়ে বালিচাপা অবস্থায় ৪ শিশুর লাশ দেখতে পান। পরে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন রাতে দাফন করা হয়। ওই সময়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল আলী বাঘাল, তার দুই ছেলে জুয়েল ও রুবেল, একই গ্রামের আজিজুর রহমান আরজু, শাহেদ আলী, সালেহ এবং বশিরসহ আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রাক্তন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকতাদির হোসেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউছার আলমের আদালতে আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৮ জুন দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার পরিকল্পনাকারী আব্দুল আলী বাঘাল, তার দুই ছেলে জুয়েল ও রুবেল, একই গ্রামের আজিজুর রহমান আরজু ও শাহেদ আলী কারাগারে রয়েছেন। পলাতক ৩ আসামি হলেন- আব্দুল আলী বাঘালের ভাতিজা বিল্লাল হোসেন, উস্তার মিয়া ও বাবুল আহমেদ। মামলার অন্যতম আসামি অটোরিকশা চালক বাচ্চু র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এ বছরের ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

 

 

রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/২৬ জুলাই ২০১৭/মামুন চৌধুরী/শাকির/ইভা