গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: ছিল ৫ বিঘা জমি। তাও গিলে খেয়েছে মধুমতি। এখন স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসত ভিটাটুকুতেই টিকে আছেন ইছাখালী’র ওসমান সিকদার। ভাবছেন, এটুকুও হারালে দাঁড়াবেন কোথায়?
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চারটি গ্রামে মধুমতি নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে কয়েকশ’ বিঘা ফসলি জমি, স্কুল, খেলার মাঠ, মক্তব, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এখন পরের জমিতে কৃষি কাজ করে কোন মতে সংসার চলছে ওসমান সিকদারের। বসত ভিটাটুকু কখন নদীগর্ভে চলে যায়, সে শঙ্কায় দিন পার হচ্ছে তার।
তার মত একই দশা ইছাখালি গ্রামের জাকির সিকদার, আক্তার শেখ ও লুৎফর সিকদারের। তারাও আতঙ্কে তাদের জমি ও বাড়ি-ঘর নিয়ে।
ইছাখালিসহ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, এ বছরের শুরুতেই সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মধুমতি পাড়ের ডুবসি, চরঘোষাল, ও ঘাঘাধলইতলা গ্রামের তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। এরই মধ্যে ডুবসি মোল্লাপাড়া রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইছাখালি মোল্লাপাড়া জামে মসজিদসহ আরো বেশ কয়েকটি মসজিদ, কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি, গাছপালা, বিদ্যুতের খুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সর্বশান্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে ও পরের জমিতে বসবাস করতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থদের।
ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেক পরিবারকে ৩/৪ বার বসতবাড়ি অন্যত্র সরাতে হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে কয়েকশ’ টিউবয়েলও চলে গেছে নদীগর্ভে। ফলে এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। খাল বা বিলের পানি পান করতে হচ্ছে তাদের।
কৃষক কামরুল হাসান বলেন, ‘ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়া জমিগুলোতে এই মুহূর্তে পাট ও রবিশস্য রয়েছে। জমিগুলো ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচানো না গেলে চলতি বছর কৃষকরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।’
এ বাপারে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ‘মধুমতি নদীর ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে ৫০০ মিটার জায়গা ডিপিপি‘র অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এবং তা একনেকে অনুমোদনের অপক্ষোয় আছে। ডিপিপি অনুমোদন হলে আমরা ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ করতে পারব। এছাড়া অন্যান্য স্থানে যে সব ভাঙ্গন আছে তা ডিপিপির অন্তর্ভূক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া আমরা জরুরীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করে ভাঙ্গনরোধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ রাইজিংবিডি/ গোপালগঞ্জ/২৯ জুলাই ২০১৯/বাদল সাহা/টিপু