হবিগঞ্জ সংবাদদাতা : অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দেশের ৪৯২তম উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জের দেড় দেড় লক্ষাধিক লোকের জন্য সরকারিভাবে মাত্র একজন ডাক্তার।
অথচ প্রায় সাড়ে ৩৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় রয়েছে একটি পৌরসভা ও ব্রাহ্মণডুরা, নূরপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ নামে তিনটি ইউনিয়ন।
আজ পর্যন্ত এ উপজেলায় বহুশয্যার কোন হাসপাতাল নির্মাণ হয়নি। এখানে চিকিৎসার জন্য রয়েছে মাত্র একটি উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্স ভবনটিও আবার ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত লোকজনকে বাধ্য হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে জেলা সদরে আধুনিক হাসপাতালে যেতে হয়।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি শায়েস্তাগঞ্জ-দেউন্দি সড়কে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ড এলাকায় স্বাধীনতার পূর্বে স্থাপিত। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে একজন মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক, মিডওয়াইফ, নৈশ প্রহরী, ঝাড়ুদারের পদ রয়েছে। এরও আবার ৬টি পদ শূন্য। বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শেখর কুমার চন্দ্র একাই প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, পৌরসভা ও থানা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকবার ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য প্রস্তাবও করা হয়। কিন্তু তিন একর জমি না পাওয়ায় আর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যায়নি।
সবশেষে শায়েস্তাগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভূমিতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরকৃত একপত্রে শায়েস্তাগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জায়গাতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল নির্মাণে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলায় এই হাসপাতালটিও নির্মাণ করা হয়নি।
২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিকেলে হবিগঞ্জ নিউফিল্ডে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা দেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছিল না। হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের এমপি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালান। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিকারের সভায় উপজেলা হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জকে অনুমোদন দেয়া হয়। চলতি বছরের ১৮ জুন এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন উপজেলা হওয়ায় এখন পর্যন্ত উপজেলা ভবনের কাজ শুরু হয়নি। এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হতে আরো সময় লেগে যাবে। তাই এ অবস্থায় দ্রুত ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতালটি নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির স্থানে কোন দিকেই প্রাচীর নেই। এ সুযোগে গরু চড়ানো হচ্ছে। স্তুপ করে রাখা হয়েছে গরুর গোবর। এতে চিকিৎসালয়ের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে দেখার কেউ নেই।
এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শেখর কুমার চন্দ্র বলেন, ‘এ কেন্দ্রটি সরকারি নিয়মানুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এখানে শায়েস্তাগঞ্জসহ তার আশপাশ এলাকার রোগীরা এসে বিনামূল্যে সরকারি ঔষধ ও সেবা পাচ্ছে। চিকিৎসা সেবার স্বার্থে এখানে দ্রুত ১০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ হওয়া দরকার। তা হলে জরুরী বিভাগ চালু থাকবে। লোকজন এসে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পাবে।’
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, ‘জেলার যোগাযোগের মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটির একদিকে ঢাকা-সিলেট রেল পথ। অপর দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এ দুটি পথ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে রোগীদেরকে হবিগঞ্জে নিয়ে যেতে হয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে এখানে ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
রাইজিংবিডি/ হবিগঞ্জ/২৯ আগস্ট ২০১৯/মোঃ মামুন চৌধুরী/টিপু