সারা বাংলা

মাদারীপুরের ডেঙ্গু রোগীরা আতঙ্কে

মাদারীপুর সংবাদদাতা: মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ এসব হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ ছাড়া আর কোন সুবিধাই নেই।

ব্লাড ব্যাংক, প্লাটিলেট ট্রান্সফারসহ তেমন কোন উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। ডাক্তার, নার্সদের নিরলস চিকিৎসা সেবাই মূল হাতিয়ার। ফলে সামান্য অবনতিতেই রোগীকে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বলা যায়, উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে আতঙ্কে থাকতে হয় মাদারীপুরের ডেঙ্গু রোগীদের।

আক্রান্তের সংখ্যা ৫শ প্রায়। এখনো হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রয়েছে অর্ধশতাধিক রোগী। এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গৃহবধূ ৩ সন্তানের জননী সুমি আক্তার (৩০) গত ২০ আগস্ট শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কিন্তু ২৪ আগস্ট তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকার পথেই মৃত্যু হয় তার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এমনকি জেলা সদর হাসপাতালেও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় কোন প্রকার চেষ্টাও করা যায়নি গৃহবধূ সুমিকে বাঁচানোর। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠাতে হয় ঢাকা, আর পথেই ঘটে মৃত্যু।

এর আগে ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান মাদারীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী তপন মন্ডল (৩৫) । ১৩ আগস্ট একই উপজেলার ঢাকা ফেরৎ হাজী আবদুল মজিদ (৭৫) মারা যান। ৪ আগস্ট মারা যান ২ সন্তানের জনক গার্মেন্টস শ্রমিক রিপন হাওলাদার (৩২) । ২ আগস্ট রাতে কালকিনির নাদিরা আক্তারের (৩৭) মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার রুবেল হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তার (২২), শিবচরের সলু বেপারীর কান্দি এলাকার বাবু খানের ছেলে ফারুক খান (২২) ও কালকিনি উপজেলার পৌরসভার ঠেঙ্গামারা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে জুলহাস বেপারী (৪৫) ঢাকায় মারা গেছেন।  

 

শিবচর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী আকবর বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমার জ্বর আর মাথা ব্যাথা থাকায় হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তাই এখানে ভর্তি আছি। এখানে আমাকে স্যালাইন আর প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের এক নার্স বলেন, ‘একজন রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে রক্ত প্রয়োজন হলে রক্ত দেওয়ার মত ব্লাড ব্যাংক এখানে নেই। রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে আইসিউতে রাখার সুযোগ সুবিধাও হাসপাতালে নেই। তাই আমরা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে হয়।’

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনোলজিস্ট গোলাম রেজাউল নবী বলেন, ‘এখানে বর্তমানে রোগীদের চাপ অনেক বেড়েছে। রোগীদের রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে বৃদ্ধির চিকিৎসা সুবিধা উপজেলা পর্যায়ের কোন হাসপাতালেই নেই। আমরা সাধারণভাবে রক্ত দিতে পারি । কিন্তু প্লাটিলেট সেপারেশন করে দেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের নেই।’

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোকাদ্দেস আলী বলেন, ‘আমাদের প্যাথলজিতে ব্লাড সিবিসি, প্লাটিলেট কাউন্ট, এনএস ওয়ান ও ডেঙ্গু আইজিজি এবং আইজএম এই সকল পরীক্ষা করা হয়। রোগীর শরীরে প্লাটিলেট দেওয়ার মত ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। আমাদের মেডিসিন কনসালটেন্ট আছে তার আন্ডারেই রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। একজন রোগী যখন রেস্টলেস হয়ে যায় আমরা সাধারণত তখনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করি। আমাদের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে যতটুকু সুবিধা আছে আমরা তার সবটুকু সুবিধা একজন রোগীকে দিয়ে থাকি।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এসএম খলিলুজ্জামান বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আমরা গুরুত্ব সহকারে সেবা দিয়ে থাকি। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে কোন কোন রোগীকে আমরা অন্যত্র পাঠিয়ে দেই। আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, সভা সেমিনারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। রোগীদের রক্তে প্লাটিলেট দেওয়াসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে নেই। তাই উন্নত চিকিৎসার স্বার্থেই আমরা রোগীদের ঢাকা বা ফরিদপুর পাঠাই।’ রাইজিংবিডি/ মাদারীপুর/২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/প্রদ্যুৎ কুমার সরকার/টিপু