পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন এবং শেকলবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামে।
মো. সাইফুল ইসলামের বড় মেয়ে সাদিয়া ইসলাম শিমু। একই গ্রামের মো. বকুল মন্ডলের ছেলে মাসুদ রানার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে দুজনকেই সতর্ক করা হয়। কিন্তু গত ৩ মার্চ তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ৬ মার্চ তারা বিয়ে করে এবং ঢাকায় বসবাস করতে থাকে।
এদিকে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাসুদ রানা এবং তার বাবাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় অপহরণের মামলা করেন। ঢাকা থেকে এই প্রেমিক যুগলকে আটক করে পুলিশ। ১৪ দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন মাসুদ রানা। এরপরই তিনি জানতে পারেন শিমুকে তার বাবা শেকলবন্দী করে রেখেছে। শত চেষ্টা করেও তিনি শিমুর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
বিষয়টি জানতে পেরে ২৭ জুন দুপুরে এই প্রতিবেদক সাইফুল ইসলামের বাড়ি যান। সাংবাদিক বুঝতে পেরে প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। বাড়ির সদর দরজা বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী প্রবীণরা এগিয়ে এলে তিনি শিমুর সঙ্গে কথা বলতে দিতে রাজি হন। এবং বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন।
শিমু বেরিয়ে এলে তার বাম পা ও বাম হাতে শেকলের দাগ দেখা যায়। শিমু কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাকে প্রায় একমাস হলো ঘরে শেকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও এ সময় তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে মাসুদ রানা বলেন, ‘৭ বছর আমাদের প্রেম। পরিবার থেকে মেনে নেবে না বুঝতে পেরেই আমরা পালিয়ে গিয়েছিলাম।’ কিন্তু শিমু এখনও প্রাপ্তবয়স্কা নন। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে মাসুদ রানা বলেন, ‘শিমুর জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী বয়স ১৮। আমার ২১। বিয়ের আগে কোর্টে আমাদের কাগজগুলো দেখাতে হয়েছে।’
সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাসুদ জালিয়াতি করে ওই কাগজ তৈরি করেছে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী শিমুর বয়স ১৭ বছর। ওকে ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
মেয়েকে ঘরে শেকলবন্দী রেখে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানসিক চাপে শিমু আত্মহত্যা করতে পারে। এ কারণে ওকে ঘরের মধ্যে রাখা হয়েছে। শেকলবন্দী করে রাখা হয়নি।’
নাটোর/তারা