সারা বাংলা

চাইতে গেলো বিচার, মিললো মারধর

ঢাকার ধামরাইয়ে বিচার চাইতে গিয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাদের মোল্লার কাছে ফের মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রমজান (২৬) নামে এক অটোরিকশা চালক।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) রাসেল মোল্লা।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী রমজান ও তার ভাই রুবেল ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের গাঙ্গুটিয়া গ্রামের আব্দুল বাছের আলীর ছেলে। তিনি বারবাড়িয়া-কাওয়ালীপাড়া আঞ্চলিক সড়কের অটোরিকশা চালক।

রমজান জানান, গত মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বারবাড়িয়া থেকে অটোরিকশা নিয়ে কাওয়ালীপাড়া যাচ্ছিলেন তিনি। পথে যাত্রী তুলতে গেলে অপরদিক থেকে আসা ইজিবাইক চালক শুক্কুর তাকে বাঁধা দেয়। এতে তর্কাতর্কি বেধে যায়। একপর্যায়ে রমজানকে মারধর করে শুক্কুর। পরে এ ঘটনার বিচার নিয়ে কাওয়ালীপাড়ায় সড়কের (বারবাড়িয়া-কাওয়ালীপাড়া) ইজিবাইকের লাইনম্যান জাহাঙ্গীরের কাছে গেলে সেখানে তার ছেলের কাছে আরেকদফা মারধরের শিকার হয় রমজান। 

পরে এ ঘটনার বিচার চাইতে তার ভাই রুবেলকে চেয়ারম্যান কাদের মোল্লার কাছে পাঠায় রমজান। সেখানে বিচারের আর্জি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে রুবেলকে মারধর করে চেয়ারম্যান কাদের মোল্লা। 

কাওয়ালীপাড়ার লাইনম্যান রাজীব বলেন, ‘ওই ছেলেটা বিচার চাইতে আসছিলো। কিন্তু সে শুধু নিজে মার খেয়েছে জানায়। কিন্তু আমাদেন ইজিবাইক চালক জানায় সেও মার খেয়েছে। পরে আমাদের সামনে শুক্কুর তাকে মারতে গেলে আমরা থামাই। আর বলে দেই চেয়রাম্যানের কাছে যেতে।’

তবে ছেলে রাজীব ঘটনা স্বীকার করলেও এমন কোনো ঘটনার কথা জানেন না বলে মুঠোফোনে দাবি করেন লাইনের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর। পরে অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘একটা তর্কাতর্কি হয়েছে। কোনো মারামারির ঘটনা তো হয়নি।’

এদিকে মারধরের কথা অস্বীকার করলেও একটি থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করেছেন ধামরাইয়ের ৭ নম্বর গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাদের মোল্লা। 

তিনি বলেন, ‘আমি বাসস্ট্যান্ডে ছিলাম। তখন শুনি রমজানের ভাই রুবেল ইজিবাইক চালককে মারার জন্য রড নিয়ে আসছে। পরে আমি তাকে ডেকে এনে একটা থাপ্পড় দিয়ে তাকে সেখান থেকে বের করে দেই।’

তবে এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) রাসেল মোল্লা।