নাজিমউদ্দিন (৪৩)। বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। সংসারে স্ত্রী ছাড়াও স্কুলপড়ুয়া তিন সন্তান।
যে রিকশা দিয়ে নাজিমউদ্দিনের রুটি-রুজির ব্যবস্থা, তাও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা। সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন নাজিমউদ্দিন।
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি জানান, রিকশা চালিয়ে সামান্য যা রোজগার হয় তাতেই চলে তার সংসার। একদিন চাল না কিনলে ঘরে চুলা জ্বলে না। তিনিসহ পাঁচ জনের সংসারে দৈনিক তিন-চারশ’ টাকা খরচ আছে। মাস শেষে ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল দিতে হয়। তার উপরে এনজিওর কিস্তি তো আছেই।
নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলে কেউ খাবার দেবে না। করোনার ঝুঁকি থাকলেও রিকশা নিয়ে বের হতেই হবে। না হলে পরিবারের সবাই না খেয়ে থাকবে। নিজেরা দুয়েক বেলা না খেয়ে থাকলেও তত কষ্ট লাগে না, সন্তানদের মুখে খাবার দিতে না পারলে যতটা কষ্ট লাগে। পেট তো আর লকডাউন বুঝে না।’
এদিকে, সরকার ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানচলাচল ছিল স্বাভাবিক। উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লকডাউন তেমন মানছেন না লোকজন। স্টেশনগুলোতে মানুষের ভিড়। বেশিরভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, প্রাইভেটকারে চলাচল করছেন।
সকাল থেকে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প-কারখানায় প্রবেশ করেন। তবে স্বল্প দূরত্বের পরিবহন কিছুটা কম থাকায় কারখানা ও অফিসে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয় শ্রমিকসহ যাত্রীদের।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিম মোস্তারী বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে মাঠে রয়েছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’