পৌষ মাস শুরু হলেও ময়মনসিংহে তীব্র শীত অনুভূত হয়নি। তবে গত দুইদিন যাবৎ নিম্নচাপের প্রভাবে দিনরাত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ময়মনসিংহে শীতের দাপট বেড়েছে।
তীব্র শীত থেকে রক্ষা পেতে ভিড় বাড়ছে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে। পুরাতন কাপড়ের দোকানেই ক্রেতাদের আগ্রহ যেন একটু বেশি। কম দামই এর কারণ। বিত্তবানরা অভিজাত শপিংমল ও বিপণিবিতানে ছুটলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের অনেকেই ফুটপাতের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছেন।
রোববার (৬ ডিসেম্বর) নগরীর চড়পাড়া, গাঙ্গিনাপাড় ও বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, গরম কাপড়ের সমারোহ ঘটেছে বিপুল পরিমাণে। সেই সঙ্গে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল ব্যাপক। দোকানিরা জানিয়েছেন, ফুটপাত ও মার্কেটগুলোতে সোয়েটার, উলের পোশাক, ব্লেজার, ট্রাউজার, জ্যাকেট, চাদর, মাফলার, কানটুপিসহ নানা ধরনের শীতবস্ত্র সরবরাহ হয়েছে।
বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে ফুটপাত ও মার্কেটের দোকানগুলোতে নতুন/পুরাতন শীতের কাপড় বিক্রি চলছে। এসব দোকানে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০-৫০০ টাকা দামের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
ইদ্রিস মিয়া নামে এক ফুটপাতের দোকানি বলেন, এক সপ্তাহ আগেও শীতের কাপড়ের চাহিদা কম ছিল। গত দুইদিন ধরে শীত বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। সারা বছর অন্য কাপড় বিক্রি করি। শীত আসলে শুধু শীতের কাপড়ই বিক্রি করি। পুরাতন শীতের কাপড় বিক্রিতে অল্প পুজিঁতে বেশি লাভ বলে জানান এই দোকানি।
হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী লিটন আহমেদ বলেন, আমাদের মার্কেটে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি আসেন। তাদের চাহিদার উপর নির্ভর করে আমরা পুরাতন শীতের কাপড় উঠিয়েছি। এবার বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, সামান্য বেতনে চাকরি করি। বড় মার্কেটে গিয়ে শীতের কাপড় কেনার সাধ্য নেই। তাই এই হকার্স মার্কেটে এসে কম দামে পুরাতন কাপড় কিনলাম। তবে মনে হচ্ছে এবার দাম তুলনামূলক একটু বেশি।
আরেক ক্রেতা সুফিয়া বেগম বলেন, ব্যাপক ঠাণ্ডা পড়েছে। বাচ্চাদের জন্য শীতের কাপড় কিনলাম। সাধ্য যেমন সাধও তেমন। তাই ফুটপাত থেকেই কিনেছি।