সারা বাংলা

হিলি স্থলবন্দরের সড়কগুলোর বেহাল দশা, দুর্ভোগ

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।

সড়কের কার্পেটিং উঠে হয়ে গেছে ইটঢালা সড়ক। সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষকে।

হিলির স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, ইট বিছানো নক্কড়-ছক্কড় বন্দর সড়কগুলোর বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা বন্দর সড়ক, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।  ভারত থেকে হিলি চেকপোস্টের প্রবেশ পথের শুরু থেকে বন্দর পর্যন্ত, চারমাথা থেকে দক্ষিণে মহিলা কলেজ ও সিপি থেকে উত্তরে দিনাজপুরে যাওয়ার সড়কটিতে ইট বিছানো। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো ইট দিয়ে হেয়ারিং করা। আবার নতুন করে সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে।

প্রতিদিন ২০০ এর বেশি ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়ি এ বন্দরে প্রবেশ করে। আবার ৭০০ থেকে ৮০০ দেশি গাড়ি এই এই বন্দরে প্রবেশ করে। এছাড়া দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং ঢাকাগামী সব বাস-কোচ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।  অল্প বৃষ্টির পানিতে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তেমনি শুকনা মৌসুমেও ধূলা-বালিতে রাস্তায় লোকজনের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়ে। 

হিলির স্থানীয় যুবক মার্শাল বলেন, ২০১৪ সাল থেকে রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। একবার সংস্কার হয়েছিল, আর হয়নি।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, হিলি একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্যবাহী ট্রাক এই বন্দরে প্রবেশ করে। সরকার তা থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। আমরা চাই সরকার অবিলম্বে এই রাস্তাগুলো সংস্কার করবে।

হিলির স্থানীয়া বাসিন্দা তৌহিদ ইসলাম বলেন, হিলি অবহেলিত। প্রধানমন্ত্রীর  হিলির বেহাল দশা সড়কের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ভ্যানচালক মালেক বলেন, আমি ভ্যান চালাই।  সারাদিন হিলি শহরে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। রাস্তা খারাপ, যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়।

হিলি রাজধানী মোড়ের কয়েকজন দোকানদার বলেন, শহরের রাস্তার যে অবস্থা তাতে চলাচলের মতো না। এই রাস্তা দিয়ে ভারি ভারি সব যানবাহন যাতায়াত করে। এছাড়া হাসপাতালে রোগী নিয়ে চলাচলের এ রাস্তা আরও  দুর্বিষহ। আমরা শুধু সুন্দর একটা সড়কের স্বপ্ন দেখেই আসছি। জানি না কবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

হিলি পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, হিলি স্থলবন্দরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোএকেবারেই অকেজো হয়ে পড়েছে।  সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলেছে, হিলির সড়কের কাজ টেন্ডার হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা শাহিন বলেন, হিলি থেকে জয়পুরহাটের হিচমি পর্যন্ত ফোরল্যান্ড সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে। 

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, টেন্ডার হয়ে গেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে জমির অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  আমরা জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হবে।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তা মুনসুর আজিজ বলেন, একটি টিম গঠন করে হিলি পরিদর্শন করেছি। এখানকার জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই সড়কের কাজ শুরু করবো।