সারা বাংলা

রাঙামাটি এখন আনারসে রাঙা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির স্থানীয় বাজারগুলো এখন আনারসের রঙে রঙীন হয়ে উঠেছে, চারদিক গন্ধে মৌ মৌ করছে। টসটসে, রসালো ও মিষ্টি জাতের আনারসের জন্য রাঙামাটির সুনাম অনেক দিনের। 

সবচেয়ে বেশি আনারস উৎপাদন হয় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়। নানিয়ারচরকে বলা হয় আনারসের রাজধানী।  এবারও রাঙামাটিতে আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিন রাঙামাটি শহরের বনরুপা সমতাঘাট, তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার ও ট্রাক  টার্মিনাল এলাকার শত শত বোটে করে আনারস আসছে।এখানকার ক্রেতাদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিনই  ট্রাকে করে আনারস যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

শহরের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে ছোট সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বিক্রয় হচ্ছে  ১০-১৫ টাকা আর বড় সাইজের জোড়া প্রতি আনারস বিক্রয় হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে জোড়া প্রতি ছোট সাইজের আনারস বিক্রয় হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা। আর বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বিক্রয় হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার রাঙামাটি জেলায় ২২৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে।তবে এর মধ্যে কিছু নতুন বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে।আনারসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১০০ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে প্রতি হেক্টরে ২৫ মেট্রিক টন করে আনারস পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আনারস চাষি সুজয় চাকমা বলেন, আমি নানিয়ারচর থেকে আনারস নিয়ে আসছি । অন্যান্য সময় তো আনারস বিক্রি করে ভালো লাভ হতো। কিন্তু এবার আনারসের দাম কম।

নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের আরেক কৃষক চাউপ্রু রোয়াজা বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। আমার নিজ বাগান থেকে আনারস শহরের বনরুপায় বিক্রয় করতে এনেছি। আশাকরি গতবারের চেয়ে লাভ ভাল হবে।

পাইকারি আনারস ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, গত দুই বছর তো করোনার জন্য আনারস বিক্রয় করে লাভ হয়নি। আনারসের ফলন ভালো হওয়ায় এবার আশা করছি চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে লাভ করতে পারবো।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা হচ্ছে আনারসের জন্য বিখ্যাত। এই উপজেলার পাশাপাশি সদর এবং বরকলেও আনারসের উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন বাজারে যে আনারসটি পাওয়া যাচ্ছে সেটি হচ্ছে হানিকুইন জাতের আনারস।  এটি আকারে ছোট হলেও বেশ রসালো আনারস ।