দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে রাজবাড়ী জেলা। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বছরই এ জেলায় বাড়ছে পেঁয়াজের আবাদ। তবে এ বছর পেঁয়াজে দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। পেঁয়াজ রোপনের শুরুতে হওয়া বৃষ্টি কারণে আশানুরুপ ফলন না পাওয়া এবং উৎপাদন মৌসুমে দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
চাষিদের দবি, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করলে পথে বসতে হবে তাদের।
রাজবাড়ীতে এখন মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। পেঁয়াজ তোলার কাজে পুরুষের পাশাপাশি বাড়ির নারী ও শিশুরাও সাহায্য করছে। গত বছর ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের আশানুরুপ ফলন নেই। নিজের জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা চাষিরা উৎপাদন খরচ উঠাতে পারলেও জমি লিজ নিয়ে চাষ করা কৃষকেরা রয়েছে লোকসানে।
রাজবাড়ীতে দুই ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়। হালি পেঁয়াজ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ। এখন হালি পেঁয়াজ তুলতেছেন কৃষকেরা। কিন্তু পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় এইবার লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। জেলার বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে সরেজমিনে গেলে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে তাদের খচর হয়েছে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণের মধ্যে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
কৃষকদের দাবি, আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ হয় এতেই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই সরকারের উচিত ভারতের এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা।
রাজবাড়ি সদর উপজেলার চন্দীনী ইউনিয়িনের কৃষক পরিমল মালাকার বলেন, ‘তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেত করেছি। ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বীজ কিনেছি। এছাড়া সার, ওষুধ, সেচ, শ্রমিকের দাম দিয়ে খরচ হয়েছে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
তিনি আরো জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয় প্রায় ১ হাজার টাকা। সেখান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ। এতে তাদের প্রতি মণ প্রতি লোকসান হচ্ছে ২০০ টাকা। তারপর ভারতের এলসি পেঁয়াজ আসতেছে বাজারে। এই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে।
আকরাম হোসেন নামে অপর এক কৃষক জানান, চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ হয়েছে ৩৫ মণের মতো। দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টাকার মধ্যে থাকলে কৃষক বাচতো। ভোক্তাদেরও অতিরিক্ত দামে কিনতো হতো না। ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ করলে আমাদের দেশের কৃষক বাঁচবে।
কৃ্ষক আজাদ হোসেন বলেন, ৭০০ টাকা মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে শ্রমিক খরচই দেবো কি আর আমাদের থাকে কি? প্রতিটি শ্রমিকের দাম ৬০০ টাকা করে।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস. এম সহীদ নূর আকবর বলেন, গত বছরের থেকে এই বছর আড়াই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ৩৪ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে এবছর পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ মেট্রিকটন। তবে পেঁয়াজের দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে থাকলে কৃষকরা লাভবান হতো।