বরিশালের কাশিপুরে কম দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত আলমগীর হোসেন (৪০) নামে আরও এক সবজি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত আলমগীর হোসেন শহরের ২৮ নং ওয়ার্ড দিয়াপাড়া দিঘির পাড় এলাকার তিনু মাঝির ছেলে। তিনি কাশিপুর বাজারের একজন নিয়মিত সবজি বিক্রেতা।
আলমগীর হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রোববার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান, জানিয়েছেন তার ভাগ্নে শহিদুল ইসলাম।
এর আগে গত শনিবার সকাল আটটার দিকে কাশিপুর বাজারে কম দামে মরিচ বিক্রি নিয়ে বিক্রেতা সোহেল রানার সাথে বাজারের সবজি বিক্রেতাদের দ্বন্দ্ব হয়। এ ঘটনায় সোহেল রানার ছুরিকাঘাতে ওই দিন সবজি বিক্রেতা মো. কামাল হোসেনের (৩৮) মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও ছুরিকাঘাতে আরো ৫ জন আহত হয়।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।এর আগের হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিষয়টি সংযুক্ত হবে। নতুন করে আর কোন মামলা হবে না। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।
শনিবার রাতে এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত কামাল হোসেনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম। মামলায় ছুরিকাঘাত করা মরিচ বিক্রেতা সোহেল রানাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সিংহেরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃত সোনামুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। তবে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠি সড়কের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা কাশিপুর বাজারে মুদী ও কাঁচামাল বিক্রেতা।
নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ হোসেন বলেন, কাশিপুর বাজারের সামনে কমদামে সবজি ও কাচা মরিচ বিক্রি করছিলো সোহেল রানা। বাজারের ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে মারামারি ও ছুরিকাঘাতে ৬/৭ জন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. শহিদ জানিয়েছেন, কাশিপুর বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতারা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ বিক্রি করে। সোহেল রানা বাজারের সামনে মাইকিং করে ১২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করে। তখন নিহত কামালসহ আহতরা এসে ওই দামে মরিচ বিক্রি করতে নিষেধ করে। কিন্তু সোহেল রানা রাজি হয়নি। এতে তাকে বাজারের সবজি বিক্রেতা কয়েকজন মিলে বেধড়কভাবে মারধর করে। এক পর্যায়ে সোহেল রানা বস্তা কাটা ছুরি নিয়ে তাদের উপর চড়াও হয়। তার এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে নিহত কামালসহ ৫ জন জখম হয়। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কামালকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত কামাল নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাশিপুরের সৈয়দপুর এলাকার এসকান্দার সর্দারের ছেলে।
আহত অন্যান্যরা হচ্ছেন- কাশিপুরের তিনু মাঝির ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (৪০), তার ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) ও অপর ভাই মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫), এবং একই এলাকার মৃত মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. আব্দুল মালেক (৬০)। এদের একজন আলমগীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন।
ঘটনায় আহত ছুরিকাঘাতকারী মো. সোহেল রানা (৫০) পুলিশ প্রহরায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।