সারা বাংলা

বাগেরহাট-৪ আসনে তৃণমূলের নেতা মিজানুর রহমান জনীকে এমপি হিসেবে চান এলাকাবাসী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসনে (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা) তৃণমূলের নেতা এইচ, এম মিজানুর রহমান জনীকে এমপি হিসেবে পেতে চান মোড়েলগঞ্জ-শরনখোলাবাসী। ইতোমধ্যে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।  

এইচ, এম মিজানুর রহমান জনী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি উঠান বৈঠক করে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই বাগেরহাট-৪ আসনে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছেন মিজানুর রহমান জনী। তিনি বাগেরহাট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জোরালো দাবিদার হয়ে উঠেছেন।

চার বার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য হয়েছেন এইচ, এম মিজানুর রহমান জনী। ১/১১ এর সময় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তির আন্দোলনে রাজপথে থেকে নিয়মিত মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।

এইচ, এম মিজানুর রহমান জনী একজন নির্মোহ, সৎ আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। ১৯৯৪ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঢাকা কলেজে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত  ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। ২০০৩-২০১২ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৩-২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দপ্তর উপ পরিষদের সদস্য ছিলেন। 

২০১৮ সালে বাগেরহাট -৪ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মোজাম্মেল হোসেনের নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচন পরিচালক ও সমন্বয়েকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬-২০১৯ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২৩ সাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তেজগাঁও থানায় গ্রেফতার হন। ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের হাতে এলিফ্যান্ট রোডে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই ত্যাগী ছাত্র নেতা। ২০০৩ সালে রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষিত সকল আন্দোলন, মিছিল মিটিং, হরতাল সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় একাধিক সূত্র ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন জনী। তিনি দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এসবের মধ্য দিয়ে বহু পরিবারে সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া অনেক অসহায়-পঙ্গু মানুষকে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা করছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে এইচ, এম মিজানুর রহমান জনী বলেন, ‘২০০১ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের মূল দলে কাজ শুরু করি। ছাত্র রাজনীতি করাকালীন থেকেই এলাকার মানুষের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে প্রতিটি রাজনীতিক নেতার একটা প্রত্যাশা থাকে, সেই প্রত্যাশা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। এছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য দরকার স্মার্ট নেতা, দক্ষ প্রশাসন ও দক্ষ নাগরিক। তরুণ ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ একজন তরুণ নেতা হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ -শরনখোলা) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।’

জনী আরও বলেন, ‘বিগত চৌদ্দ বছরে সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এই উন্নয়ন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য উন্নয়ন। এলাকার মানুষ মনে করে তরুণ প্রজন্মের একজন নেতা হিসেবে এই আসনে নমিনেশন পেলে এলাকায় আরও উন্নয়ন ঘটবে। বাগেরহাট একটি সম্ভাবনাময় জেলা। বাগেরহাটের (মোড়েলগঞ্জ-শরনখোলা) উপজেলা সাগরের কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা। এখানে মৎস্য প্রাণিসম্পদ ও পর্যটন শিল্প হিসেবে ঘোষণা করলে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে এবং মৎস্য সম্পদ আহরণ করে রপ্তানিখাতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। এর ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে, এলাকার সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য আর ঢাকামুখি হবে না। এছাড়া মৎস্যজীবিদের আধুনিক মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ করাতে পারলে, সরকারি সুযোগ সুবিধা দিতে পারলে এলাকা থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণও সম্ভব হবে।’

এলাকার স্থানীয় প্রবীণসহ বর্তমান প্রজন্মের তরুণরাও এই সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাকে বাগেরহাট-৪ আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চান। তারা জানান, এলাকার উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশের সাথে তাল মেলাতে এইচ, এম মিজানুর রহমান জনীর মতো আন্তরিক নেতারই প্রয়োজন।