সারা বাংলা

রংপুরে ইফতারে পছন্দের তালিকায় ‘রুহ আফজা মাস্কাট শাহী হালুয়া’

দেশের অন্য জেলাগুলোর মতো রংপুরেও রয়েছে ইফতার সামগ্রীর ঐহিহ্য। বিভাগীয় এই নগরীতে ইফতারে ছোলা, পিঁয়াজুর পাশাপাশি নতুন নতুন খাবার যোগ হতে শুরু করেছে। এবার রোজাদারদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে মৌবন হোটেলের তৈরি ‘রুহ আফজা মাস্কাট শাহী হালুয়া’। এটি আবার অনেকের কাছে ‘শাহী হালুয়া’ নামেও পরিচিত।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিকেলে নগরীর কাচারি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে এবার বসেছে নগরীর সবচেয়ে বড় ইফতার বাজার। মানসম্মত ইফতার কিনতে রীতিমতো সেখানে ভিড় করেন ক্রেতারা। রংপুরিয়ানদের ইফতারপাতে ভাজাপোড়া আর মুখরোচক খাবার প্রাধান্য পায় বহুকাল ধরে। তবে, এবার শাহী হালুয়া বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

মৌবন হোটেলের কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ময়দা, চিনি, শিরা, অন্যান্য খাদ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়  মাস্কাট হালুয়ার ছানা। পরে রুহ আফজা মিশিয়ে অন্য পাত্রে রেখে ঠান্ডা করলেই টসটসে লাল রঙের আলতো জমাট বাধে এই হলুয়া। জমাট বাধা খামির পরে পিস পিস করে কেটে বিক্রির উপযোগী করা হয় রোজাদারদের ইফতারের জন্য। প্রতি পিস ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। ২৬০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় এই হালুয়া। রোজাদারদের ইফতার পার্টিও বেশ জনপ্রিয় এই হালুয়াটি।

রংপুরের গোমস্তা পাড়ার কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ছয় পিস শাহী হালুয়া কিনেছেন। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে এই হালুয়া কিনে নিয়ে যাই। বাসায় মা এবং ছোট বোন খুব পছন্দ করে এই হালুয়া।

মৌবন হোটেলের বিক্রেতা লেবু মিয়া বলেন, দই বড়া, শাহী জিলাপি, বুট, বুন্দিয়া, বুট বিরিয়ানী, ছানা পোলাও, পিঁয়াজু আর চপের সঙ্গে প্রত্যেক রোজাদার কম বেশি কিনছেন রুহ আফজার  মাস্কাট হালুয়া। প্রত্যেক রমজানে ব্যতিক্রমী আইটেম আয়োজন করা হয় রোজাদারদের ইফতারের জন্য। তাই গতবারের চেয়ে এবার শাহী মাস্কাট হালুয়ার চাহিদা প্রচুর বলেও জানান এই বিক্রেতা।

 

রুহ আফজার মাস্কাট হালুয়া ছাড়াও ৫০ থেকে ৭০ পদের বাহারি মুখরোচক ইফতার আইটেম বিক্রি করছে মৌবন। মান ভেদে প্রতিটি ইফতার প্যাকেজ ১০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রিও করছেন তারা। এবারের রমজানে বেচাবিক্রি ভালো বলেও জানান মৌবন ম্যানেজার আশরাফুজ্জামান।

মৌবন ছাড়াও নগরীর জাহাজ কোম্পানি, কাচারি বাজার, পায়রা চত্বর, শাপলা, মেডিক্যাল মোড়, সিও বাজার, লালবাগ, মর্ডান, সাতমাথা এলাকাগুলোতে বসেছে ইফতারের বাজার। নগরীর ছোট বড় এসব দোকানে প্রতিদিন অনেক টাকার ইফতার বেচাবিক্রি হচ্ছে।