সারা বাংলা

বিরল রোগে আক্রান্ত রুহান, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩৬ কোটি টাকা

বিরল ডিএমডি রোগে আক্রান্ত পটুয়াখালীর আবরাম তাহমিদ রুহান। চিকিৎসার জন্য় প্রয়োজন ৩৬ কোটি টাকা। চিকিৎসার বিশাল ব্যয় মেটাতে বিত্তবানদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে তার পরিবারসহ এলাকাবাসী।

রুহান পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার রাকিব হাসান ও আফসানা মিমি দম্পত্তির একমাত্র সন্তান। সে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা পৌর শহরের সিটি মার্কেটের  পোশাক বিক্রেতা, মা গৃহিণী। 

এক বছর আগে হঠাৎ করেই রুহান অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাঁটাচলায় অক্ষম হয়ে পড়ে সে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শেষে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালে জানা যায় রুহান বিরল রোগ ডিএমডিতে আক্রান্ত। তার জেনেটিক পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল ভারতে পাঠনো হলে তারাও একই কথা বলে। 

ইতোমধ্যে রুহানের শরীর নিস্তেজ হতে শুরু করেছে। দুর্বল হতে শুরু করেছে পায়ের মাংসপেশী। চিকিৎসকরা বলছেন,  কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধসহ ব্যয়বহুল জিন থেরাপি নিতে পারলে পেশী দুর্বলতা এবং রোগের প্রার্দুভাব কমতে পারে। তবে এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল। তার বাবা-মায়ের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় মেটানো অসম্ভব। 

রুহানের মা আফসানা মিমি বলেন, ‘‘আশা ছিল ছেলেকে সেনাবাহিনীর বড় অফিসার বানানো। কিন্তু আমাদের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

বাবা রাকিব হাসান বলেন, ‘‘ঢাকার সেন্ট্রাল হসপিটালের শিশু বিশেষজ্ঞ বলেছেন চিকিৎসার জন্য ৩৬ কোটি টাকা লাগবে। কিন্তু আমি কিভাবে এতো টাকা জোগাড় করবো? চোখের সামনে ছেলেটি এভাবে শেষ হয়ে যাবে সেটাও মানতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানরা একটু সহযোগিতা করলে ছেলেটির চিকিৎসা অন্তত করাতে পারতাম।’’

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘জটিল ডিএমডি রোগের উন্নত চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। এ ছাড়া এখনও এ রোগের সফল চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি।’’

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত আরা জামান উর্মি বলেন, ‘‘রুহানের চিকিৎসার পুরো টাকা উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া সম্ভব না। তবে তাকে আমরা যথাসাধ্য সহযোগিতা করব।’’

রুহানকে সহযোগিতা করা যাবে বিকাশ, নগদ ও রকেটের ০১৯১৭৪৯১৫৩৬ এই নাম্বারে। এ ছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বার ২১৮১৫৮০২১৫০১৯ অ্যাকাউন্টেও সহযোগিতা করা যাবে।