নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হত্যাসহ ১২ মামলার আাসামি সন্ত্রাসী সোহেল মিয়াকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে রায়পুরা থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান।
সম্প্রতি রায়পুরা উপজেলায় সংঘটিত সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা পুলিশ। সেখানে পুলিশ সুপার জানান, সোমবার (২১ জুলাই) ভোরে রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে হানিফ মাস্টার গ্রুপ ও এরশাদ গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোমেনা বেগম (৪৫) মারা যায়। তিনজন গুরুতর আহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ আসাদ, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি বায়েজিদ বিন মনসুর এবং র্যাবের সিনিয়র এএসপি জুয়েল রানা।
পুলিশ সুপার আরো জানান, অভিযান চলাকালে মেঘনা নদীর তীর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল মিয়াকে (৩৭)। তিনি উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। সোহেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন। অভিযানে ৫টি একনলা বন্দুক, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৩০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ১২টি শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৪টি হত্যা মামলা, ২টি অস্ত্র মামলা এবং ৬টি বিভিন্ন অপরাধে দায়েরকৃত মামলা। এ সব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।
ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।