খাগড়াছড়ির ভাই-বোন ছড়ায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে’ দ্রুত বিচার দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে মিছিল এবং সমাবেশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখাগুলো যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সাজেক পর্যটন সড়কের লাদুমনি বাজারের দ্বপদা হতে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি পর্যটন সড়ক হয়ে সাজেকের উজোবাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বিচারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। এতে বঙ্গলতলী, বাঘাইহাট ও মাচলং এলাকার শিক্ষার্থী, নানা শ্রেণিপেশার পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নেয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি অমিতা চাকমা। হিল উইমেন্স ফেডারেশন বাঘাইছড়ি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক পরানী চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি জ্যোতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক অনুপম চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বাঘাইছড়ি উপজেলা সভাপতি সুখী চাকমা ও ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাবু ধন চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গত ২৭ জুন রথযাত্রা পূজা উৎসব পালন করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওই শিক্ষার্থী। তাকে আটকে রেখে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি হুমকিধমকি দেয়া হয়। ১২ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
পরে ১৬ জুলাই ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর বাবা ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার ছয় আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।