চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির নেতা রুমিন ফারহানার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা বাজারে সংঘর্ষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারেক রহমান ও রুমিন ফারহানাকে ব্যঙ্গ করে পোস্ট দেওয়া একটি ছবি শেয়ার দেন গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা ইলিয়াস হোসেন। ওই পোস্টকে অবমাননাকর উল্লেখ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হন। পরে ইলিয়াস হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে পোস্টটি মুছে ফেলেন। এ নিয়ে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয়ভাবে বৈঠকের কথা থাকলেও এর আগে উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পালিশারা বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত বিএনপির পাঁচজন নেতাকর্মীকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সদস্য নেছার আহমেদ চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রয়েছেন। জামায়াতের আহত ৮ নেতাকর্মীকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত যুবদল নেতা নেছার আহমেদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমানের অবমাননাকর বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে জামায়াতের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’’
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বলেন, ‘‘আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। উপজেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জামায়াতের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির হাফেজ আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘‘এটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। তবে বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’’
জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘‘সংঘর্ষে আমাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর। তারা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।’’
হাজীগঞ্জের উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আক্তার হোসেন দুলাল বলেন, ‘‘ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’’
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ‘‘জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ৪/৫ জন আহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। এখনো কেউ আটক কিংবা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’’