গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে মতিয়ার রহমান (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে মারধরের পর ঘরের টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সুরুজ মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত বুধবার (১ অক্টোবর) মতিয়ার মিয়ার স্ত্রী জমিলা বেগম ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘পূজার ব্যস্ততা থাকায় তদন্তে অগ্রগতি হয়নি। অভিযুক্তকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।’’
এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
হতদরিদ্র বৃদ্ধকে মারধর ও ঘরের টিন খুলে নেওয়ার কারণ জানার চেষ্টা করেছে রাইজিংবিডি ডট কম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘‘প্রায় দুই মাস আগে মতিয়ার রহমানের নাতি বুলুর কাছ থেকে একটি নষ্ট মোবাইল মেরামত করে ব্যবহার করার জন্য নেন প্রতিবেশী সাজু মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া। তারা একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পরে এক হাজার টাকা খরচ করে মোবাইল সচল করে ব্যবহার করতে থাকেন সুরুজ মিয়া। কিছুদিন আগে সুরুজের কাছে থেকে মোবাইলটি হারিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে গ্রামেই তা পাওয়া যায়। এরপর সুরুজ বুলুকে মোবাইল ফেরত দিয়ে মেরামতের এক হাজার টাকা চায়। সেই এক হাজার টাকা ফেরত দিতে দেরি হওয়ায় সুরুজ বুলুর বাড়িতে এসে তার বৃদ্ধ দাদা মতিয়ার মিয়াকে কিল-ঘুষি মারেন এবং ঘরের বারান্দা থেকে ৬-৭টি টিন খুলে নিয়ে যান।’’
বৃদ্ধ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী ঘরে নামাজ পড়ছিল। সুরুজ এসে টিন খোলা শুরু করে। আমার স্ত্রী নামাজ শেষ করে সুরুজক বাঁধা দিতে গেলে তার সঙ্গে হাতাহাতি হয়। তখন আমি চেয়ার থাকি উঠে সুরুজকে থামাতে গেলে সে প্রথমে আমার শরীরে ও পরে মুখে ঘুষি মারে।’’
বৃদ্ধ মতিয়ার রহমানের স্ত্রী জমিলা বেগম অভিযোগ করেন বলেন, ‘‘সুরুজ আমার নাতির বয়সী হলেও সে আমার স্বামীর গায়ে হাত তুলেছে। আমার নাতির কাছে দাবি করা এক হাজার টাকা ফেরত দিতে এক দিনের সময় চেয়ে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু সুরুজ কোনো কথা শোনেনি। আমার গায়েও হাত তুলতে এসেছিল। আমার স্বামী এসে বাঁধা দেয়। তখনই গায়ে হাত তোলে সুরুজ।’’
হতাশা ও ক্ষোভের সূরে তিনি বলেন, ‘‘সুরুজ টিনগুলো এখনো ফেরত দেয়নি। একটাই থাকার ঘর। বৃষ্টিতে সমস্যা হচ্ছে। সুরুজ মোবাইল মেরামত করার কথা বললেও মোবাইলটি আসলে নষ্টই ছিল। সে কারণে মোবাইল ফেরত দিলেও আমার নাতি টাকা দিচ্ছিল না।’’