আগের বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় উপভোগ করতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারো পর্যটক। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ২০২৬ সালের কাকডাকা ভোরে সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, চরগঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চড়ে উপস্থিত হন তারা। তবে, ঘন কুয়াশার কারণে বিশেষ মুহূর্তটি উপভোগ করতে না পারলেও সৈকতের তীরে আছড়ে পড়া বঙ্গোপসাগরের ছোট ছোট ঢেউ এবং প্রকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গত বছরের তুলনায় এবছর কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কম। গত ৮-১০ বছর ধরে থার্টিফাস্ট নাইটে কুয়াকাটা সৈকতে কোনো আয়োজন না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুব ভোরে জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত পর্যটকরা সূর্যোদয় উপভোগ করতে না পারলেও মেতে ছিলেন হইহুল্লোড়ে। অনেকে সমুদ্রের ঠান্ডা পানিতে পা ভিজাচ্ছিলেন। অনেকে ঘোড়াসহ বিভিন্ন বাহনে চড়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছিলেন। সৈকতের বঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেও দেখা গেছে পর্যটকদের।
ঢাকার মিরপুরের চিড়িয়াখানা এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান-সায়মা দম্পতি জানান, পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই কুয়াকাটা এসেছেন। বুধবার লেম্বুরবন এলাকা থেকে সূর্য অস্তের দৃশ্য উপভোগ করেছেন। ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার সকালে বছরের প্রথম সূর্যোদয় উপভোগ করতে না পারার কথা জানান তারা, তবে শিশিরে ভেজা সকালের সঙ্গে লালকাঁড়ার ছুটোছুটি এবং এবং গঙ্গামতি এলাকার মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ মুগ্ধ করেছে বলে জানান তারা।
বরিশাল থেকে আসা পর্যটক সুজন মিয়া বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে বুধবার সকালে কুয়াকাটায় এসেছি। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত উপভোগ করে পুরনো বছরকে বিদায় দিয়েছি। নতুন বছরের প্রথম দিন চর গঙ্গামতি এসেও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যোদয় উপভোগ করতে পারিনি। তবে, কুয়াশায় আবদ্ধ সকাল এবং শিশির ভেজা গাছপালা দেখে অনেক ভালো লেগেছে। সূর্যোদয়ের দৃশ্যটা উপভোগ দেখতে পারলে আমাদের সব আশা পূর্ণ হতো।”
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনস অফ কুয়াকাটার (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা কুয়াকাটার সব ব্যবসায়ীরা শোকাহত। তার মৃত্যুর কারণে এবছর কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কম। তারপরও নতুন বছরের প্রথম দিন কুয়াকাটা প্রায় ৭০ ভাগ হোটেল-মোটেলের কক্ষ বুকিং রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে কুয়াকাটায় কোনো ধরনের আয়োজন না থাকায় বিগত ৮-১০ বছর ধরে পর্যটক অনেকটা কম থাকে। এবছর কোন আয়োজন না থাকলেও কোন সমস্যা নেই। আগামী বছর থেকে থার্টিফাস্ট নাইটে সরকারিভাবে কুয়াকাটায় সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।”
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “বছরের শেষ দিন এবং প্রথম দিন কুয়াকাটায় অন্যান্য দিনের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা একটু বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সূর্যোদয়ের স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”