সারা বাংলা

হাড়কাঁপনো শীত মৌলভীবাজারে

টানা চারদিন ধরে কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার। বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো কয়েকদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তীত থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে শীতের তীব্রতা একটু কম থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকায়  জবুথুবু অবস্থা। বিশেষ করে হাওর, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকায় বসবাসরত ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ ঠান্ডায় বেশি কষ্টে আছেন। 

শ্রীমঙ্গলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বেড়াতে রবিউল আলম বলেন, “এমন শীত এর আগে কোথাও পাইনি। বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েছি।”

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিশালোক গ্রামের দিনমজুর মোস্তফা মিয়া বলেন, “হাড়কাঁপানো শীতের কারণে কাজের সংকট রয়েছে। কাজের আশায় শীতের মধ্যেই ভোর বেলায় শহরের আসতে হয়। কখনো কাজ পাই, কোনো কোনো শীতের কারণে কাজ পাই না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

রাজনগর উপজেলার ভ্যানচালক কাশেম মিয়া বলেন, “গত চারদিন ধরে সকাল থেকেই চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের আলোর দেখা মিলছে না। রাস্তায় মানুষের চলাচল কম। কাজও পাচ্ছি না। শীত বাড়ায় আয় রোজগারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”

লংলাভ্যালীর ইটা চা বাগানের শ্রমিক মহিবুল আলম বলেন, “শীতকে উপেক্ষা করেই আমাদের কাজে যেতে হয়। সারাদিন সূর্যের দেখা নেই, ঠান্ডা বাতাসে  শীত বেশি লাগে। সকাল ও রাতে শীত বেশি পড়ছে। তীব্র শীতের কারণে সবাই কষ্টে আছে।”

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “আজ সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। উত্তর দিক থেকে মাজারি মৃদু শৈতপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। আরো কয়েকদিন এমন অবস্থা চলতে থাকবে।”