সারা বাংলা

৬২ হাজার বই পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা

সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিশু থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা শিশুদের মধ্যে নিজস্ব মাতৃভাষার পাঠ্য বই বিতরণ করা হয়। মাতৃভাষায় বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত পাহাড়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরুপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কফিল উদ্দিনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় ৭০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৪টি সাধারণ বই এবং স্ব স্ব মাতৃভাষার (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা) ৬২ হাজার ৪২৬টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলায় বই বিতরণে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজনন করা হয়নি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রাক প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হয়েছে স্ব স্ব মাতৃভাষার বই। সাধারণ বইয়ের সঙ্গে নিজের ভাষার বই হাতে পেয়ে খুশি শিশুরা। ২০১৭ সাল থেকে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষাভাষী শিশুদের হাতে তুলে দিতে শুরু করে তাদের মাতৃভাষায় রচিত বই। 

এ বছর প্রাক-প্রাথমিকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় ১৩ হাজার ১৩৪টিট বই বিতরণ করা হয়। প্রথম শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১৬ হাজার ২৩৯টিট, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ৬৩৬টি, ত্রিপুরা ভাষায় ১০০৫টি বই দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১৬ হাজার ৩৮৯টি, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ৭৭৪টি, ত্রিপুরা ভাষায় ১০৪৪টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ৫ হাজার ৭৫৩টি, মারমা ভাষায় ১ হাজার ১৯০টি এবং ত্রিপুরা ভাষায় ২৬২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণিতে সাধারণ বইয়ের পাশাপশি ত্রিপুরা ভাষায় বই পেয়েছে সীমা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “মাতৃভাষায় লেখা বই পেয়েছি, আমি অনেক খুশি। মাতৃভাষায় স্কুলে পড়ার কারণে নিজ ভাষায় অনেক কিছু শিখতে ও লিখতে পারি এখন।”

সোহেল চাকমা নামে এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সময়ে স্কুলে নিজ মাতৃভাষায় পড়ালেখার সুযোগ পাইনি। যে কারণে নিজ ভাষায় বলতে পারলেও লিখতে ও অক্ষর জ্ঞান নেই আমার। আমার ছেলে ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছে। আমার ছেলে চাকমা ভাষার অক্ষর চেনে ও লিখতে পারে। ফলে আমাদের ভাষা পৃথিবীতে অনেক দিন টিকে থাকবে।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রীতা চাকমা বলেন, “এখন স্কুলে মাতৃভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বাচ্চারা আরো ভালো করে তাদের মাতৃভাষা শিখতে পারছে।  বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষা শিক্ষাদানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা না হলে এই বই দেওয়া কোনো কাজে আসবে না।”

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কফিল উদ্দিন বলেন, “আমাদের চাহিদা অনুযায়ী জেলায় ৭০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৪টি সাধারণ বই এবং স্ব স্ব মাতৃভাষার (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা) ৬২ হাজার ৪২৬টি বই পেয়েছি। আজ সব বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে।”

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় অনাড়ম্বরভাবে বই বিতরণ করা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় সাধারণ বইয়ের পাশাপাশি মাতৃভাষায় বইও বিতরণ করা হয়েছে। মাতৃভাষার শিক্ষা কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষকদের মান আরো উন্নয়ন করা যায়।”