সারা বাংলা

ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি, জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও  রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে যাচাই-বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।  এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টি মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমানের।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে পাঁচ প্রার্থীর। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ও টিআইএন তথ্য এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ শাহ’র টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এই আসনে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ-এর ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।

যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আজ দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৪ জানুয়ারির ভিতরে ৬টি আসনের যাচাই বাছাই সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, যশোর- ১ ও ২ আসনে আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা প্রার্থীতা ফিরে পেতে নিয়মানুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।