গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পর্যায়ের তরুণ নেতা রাশেদ খাঁনের বাড়ি, প্লট বা ফ্যাটের মতো ব্যক্তিগত সম্পদ বলতে কিছুই নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই প্রার্থী তার জমা দেওয়া নির্বাচনি হলফনামায় ব্যক্তিগত সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিবরণ দিয়েছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, রাশেদ খাঁনের পেশা রাজনীতি ও ব্যবসা। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে হলফনামা জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত রাশেদ খাঁন তার আয় দেখিয়েছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এই আয়ের সবটুকুই ব্যবসা থেকে অর্জিত। তবে তার নামে কোনো শেয়ার বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত নেই। এমনকি দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদ নেই।
বর্তমানে (জমাদানের দিন পর্যন্ত) রাশেদ খানের কাছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা নগদ অর্থ রয়েছে জানিয়ে হলফনামায় রাশেদ খাঁন লিখেছেন, তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আলোর কাছে নগদ ৩০ হাজার টাকা আছে। আর দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখা ও ঢাকা সেনানিবাস শাখায় রাশেদ খানের ব্যক্তিগত হিসাবে মোট ৭ হাজার ৫৮২ টাকা জমা আছে।
হলফনামায় রাশেদ খাঁন লিখেছেন, তার নিজের রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণ এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি। এই স্বর্ণ তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। অর্জিত স্বর্ণ, ব্যাংকে জমাকৃত টাকা ও নগদ অর্থ অর্জনকালীন মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা। যার বর্তমান মূল্য ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা।
রাশেদ খাঁনের স্ত্রীর নামে স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও উপহারসামগ্রী মিলিয়ে অর্জনকালীন আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তবে রাশেদ খাঁনের নামে কোনো স্থাবর সম্পতি বা জমিজমা, প্লট, গাড়ি বা বাড়ি নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও কোনো বাড়ি, গাড়ি, জমি বা প্লট নেই।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমাদান তথ্যে তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৫ টাকার। তিনি চলতি অর্থবছরে ৫ হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন।
২০১৮ সালে তার নামে দুটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলা থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তার নামে দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।