সারা বাংলা

‘বিদ্রোহী’ সুজাত সাবেক এমপি হলেও সম্পদে রেজা কিবরিয়ার বহু পিছে

জেলার নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার ধনসম্পদে বিশাল ব্যবধান দেখা গেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, রেজা কিবরিয়ার বার্ষিক আয় সুজাতের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ।

রেজা কিবরিয়া প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। রেজা কিবরিয়া ও তার তিন নির্ভরশীলের বছরে আয় ৩১ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ টাকা। নিজের নামে অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকা।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে রেজা কিবরিয়ার একটি ফ্ল্যাট আছে। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকার স্থাবর সম্পদ। ২ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার অন্যান্য সম্পদ এবং ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকারও আছে তার স্ত্রীর। 

সব মিলে রেজা কিবরিয়া ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই। 

রেজা কিবরিয়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জলালশাপ গ্রামে। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

রেজা কিববিরায় আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। তিনি কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। সব মিলে মোট সম্পদ ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা।

কিছু যৌথ সম্পদের বর্ণনা থাকলেও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি সুজাত মিয়া। পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা লিখেছেন হলফনামায়। তিনি পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে চারটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 

যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের ডিগ্রি রয়েছে সুজাত মিয়ার।

হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া ও সুজাত মিয়ার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী। জমা দেওয়া হলফনামায় বছরে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন তিনি। তার অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণ। তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৭টি মামলার মধ্যে ১৪টি থেকে খালাস, ১৯টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং একটি মামলা বিচারাধীন। 

শাহজাহান আলীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রয়েছে এবং পেশায় তিনি শিক্ষক।

এই আসনের আরেক প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাওরায়ে হাদিস পাস। তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে তার ২৯ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। পেশা হিসেবে শিক্ষকতার কথা লিখেছেন তিনি।

আরেক প্রার্থী বাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন হলফনামায়। তার নিজের ও নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নিজের নামে ৪২ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী কামিল পাস মোহাম্মদ বদরুর রেজা তার আয় বছরে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৩ টাকা দেখিয়েছেন। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১ লাখ টাকার। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই।