চট্টগ্রামে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ২৯০ ভরি স্বর্ণ ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিএমপির উপ-কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)।
তিনি জানান, গত ৪ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ নামের এক ব্যক্তি দুজনকে সঙ্গে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে। তারা মারধর করে ও ভয় দেখিয়ে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কাশিমপুর এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। সেখান থেকে মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত স্বর্ণ গ্রেপ্তার সুমন চন্দ্র দাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে এবং চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে সুমনের স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও তথ্য ফাঁসের অভিযোগে কোতোয়ালী এলাকা থেকে বিবেক বনিক নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ কলে রবি কুমার দাস স্বীকার করেন, তিনি লুণ্ঠিত স্বর্ণগুলো তার বোন প্রতিমা দাশের কাছে রেখেছেন। সে তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ‘পিউরইট’ কিটের বাক্সের ভেতর লুকিয়ে রাখা ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।