সারা বাংলা

নীলফামারীতে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি

নীলফামারী জেলা সদর ও উপজেলায় হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির ডিলার ও পরিবেশক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে।

সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি শুরু হলেও দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই গ্যাস বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়। ফলে সাধারণ ভোক্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও মেমো ছাড়াই বেশি দামে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ইপিজেড শ্রমিক লিপি আক্তার বলেন, “গ্যাস না পেয়ে শীতের মধ্যে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।”

উত্তরা ইপিজেড এলাকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, সীমিত সরবরাহেও অতিরিক্ত দাম ও মেমোবিহীন বিক্রি চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট পরিবেশকের কার্যক্রম তদারকির দাবি জানান।

এদিকে এক পরিবেশক প্রতিনিধি দাবি করেছেন, পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী পর্যায়ে দাম বেশি পড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স বি.এস ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ভোলানাথ সরকার বলেন, “আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিরাজগঞ্জ ও খুলনা থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজ খরচে নীলফামারীতে নিয়ে আসি। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।”

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান বলেন, “এখন পর্যন্ত কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে।যেখানেই দাম অতিরিক্ত নেওয়া হবে। সেখানেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”