কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। এর মধ্যে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাঝেরচড় এলাকার সুমন হোসেনের ছেলে হোসাইন (২), কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পূর্ব পেন্নাই এলাকার শামিউল আলমের ছেলে শামীম (৪২) ও তার ছেলে নাদিফ (৬)। নিহত অপর নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আহত বাস যাত্রীরা জানান, মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করছিলেন বাসের সুপারভাইজার। এজন্য চালক বাসটি অস্বাভাবিক ধীরগতিতে চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে চালকের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয়। এরপরই চালক গতি বাড়িয়ে দেন। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় অটোরিকশাটি ছিটকে গিয়ে পড়ে একটি মোটরসাইকেলের ওপর। এতে মোটরসাইকেলের জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখান থেকে আগুন ধরে যায়। অকটেন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে দগ্ধ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, আমরা চারজনকে মৃত অবস্থায় পাই। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, বেপরোয়া গতিতে চালানো বাসের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করছি। সেই সঙ্গে বাস যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।