গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যেন কোনভাবে থামছে না কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাব, ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলায় বাড়িতে এবং মুকসুদপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ১০ নেতাকর্মী।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- টুঙ্গিপাড়া পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেলিন সাহা, ডুমুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক চয়ন বিশ্বাস, একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্কাস আলী শেখ, মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম আমির, যুগ্ম সম্পাদক মো. নুরু শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ওলিয়ার শেখ, বেলায়েত হোসেন, সদস্য জাফর মুন্সী, খাইরুল মুন্সী ও হিলাল কাজী।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে লেলিন সাহা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টুঙ্গিপাড়া পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। তবে, বর্তমানে ব্যবসায়ীক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যুবলীগের সকল পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করছি।
বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে চয়ন বিশ্বাস ও আক্কাস আলী শেখ বলেন, ২০২০ সালে আমাদের অজান্তে কে বা কারা পদে রেখেছিল জানি না। কিন্তু, আমরা কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতাম না। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। সেই সঙ্গে আগামীতে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না বলেও অঙ্গীকার করলাম।
অন্যদিকে মুকসুদপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম আমির।
তিনি বলেন, আমরা মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিতে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করছি। আজ থেকে আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা আর কখনো রাজনীতি করব না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।