নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন এ নোটিশ দেন।
নোটিশে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্প্রতি তিনি এক উঠান বৈঠকে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এমনও হইতে পারে আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখ টান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আপনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর একজন প্রার্থী হওয়ার পরও কমিটির নিকট প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আপনি জনসমক্ষে নিম্নরূপ বক্তব্য প্রদান করেন, ‘আমার ভাই হয়তো কোনো দিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।’
বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়। নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করে বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো বিধি ১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা ১২ জানুয়ারি সশরীরে জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, বিড়ি বা সিগারেট খান এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সঠিক সময়ে নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত।