সারা বাংলা

হোমিও ওষুধের আড়ালে স্পিরিট বিক্রি, তিনজনের মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

রংপুরে তিন ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, যা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে; কেন ও কীভাবে তাদের  মৃত্যু হলো। পরিবারগুলোর দাবি, স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথি দোকান থেকে স্পিরিট কিনে পান করায় তাদের মৃত্যু হয়েছে; যদিও মেডিকেল পরীক্ষা বা ময়নাতদন্ত হয়নি এখনো।

নিহতরা হলেন- জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সোহেল মিয়া (৩০), আলমগীর (৪০) ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুরের শাহ পাড়ার জেনতার আলী (৪১)।

রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোহেল নিজের বাড়িতে ও আলমগীরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তবে জেনতার আলী কখন মারা গেছেন, তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর বসন্তপুর এলাকার জয়নুল আবেদিনের দোকান থেকে স্পিরিট কেনেন সোহেল, আলমগীর ও জেনতার। তারা একসঙ্গে বসে তা পান করেন। এরপর একে একে তিনজন মারা যান।

অভিযোগ রয়েছে, জয়নুল আবেদিন হোমিওপ্যাথির দোকানে গোপনে দীর্ঘদিন ধরে স্পিরিট বিক্রি করছেন।

সোহেলের স্ত্রী মোরশেদা বেগম জানান, রবিবার সকালে ভ্যান নিয়ে বের হন তার স্বামী। বিকেলে বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় আবার বের হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসককে ডাকা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কিছু পান করায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্পিরিট পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জয়নুল আবেদিনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ১০ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পল্লি চিকিৎসার আড়ালে জয়নুল আবেদিন দীর্ঘদিন ধরে স্পিরিট বিক্রি করছেন।