সারা বাংলা

খলিশাকোঠাল সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক

কুড়িগ্রামের বালারহাটের খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাধার মুখে কাজ বন্ধ হওয়ার পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুই বাহিনী ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)। 

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত পিলার ৯৩৪ সংলগ্ন এলাকার ১৫০ গজের মধ্যে বিএসএফ কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে। সীমান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো ধরনের নির্মাণ বা সংস্কার কাজের ক্ষেত্রে উভয় দেশের পূর্ব অবহিতকরণ ও সমন্বয় বাধ্যতামূলক। বিজিবি এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট কে কে রাও।

বিজিবি অধিনায়ক প্রস্তাব করেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো কাজের আগে বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে। এছাড়া, নির্মাণাধীন স্থানের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে একটি ‌‘জয়েন্ট সার্ভে টিম’ গঠন করে সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বিজিবির আপত্তির প্রেক্ষিতে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট কে কে রাও দাবি করেন, সেখানে নতুন কোনো রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিনি আশ্বাস প্রদান করেন যে, ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বা নতুন কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের শিমুলবাড়ী বিওপি সংলগ্ন নাগেশ্বরী সংযোগ সড়ক পাকাকরণ বিষয়েও আলোচনা হয়। এই বিষয়টি বিএসএফ ইতিবাচকভাবে দেখার এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ‘নৈতিক বিবেচনার’ আশ্বাস দেয়।

বৈঠক শেষে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক মেহেদী ইমাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সীমান্ত নীতিমালা ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা লঙ্ঘন করে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ বিজিবি কখনোই মেনে নেবে না। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা কঠোর ও পেশাদার অবস্থানে থাকবে।”