সারা বাংলা

২০০ একর খাসজমি উদ্ধার, ১৭ বছরের সংঘাতের অবসান

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের প্রায় ২০০ একর সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে থাকায় পরিণত হয়েছিল বিরোধ ও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে ওই জমি ঘিরে ছাতিরচর ও গুরই ইউনিয়নের বেয়াতিরচর গ্রামের মানুষের মধ্যে টানা ১৭ বছর ধরে চলছিল দখল ও আধিপত্যের লড়াই। 

একাধিকবার সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও ব্যর্থ সালিশের পর অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের এক কঠোর সিদ্ধান্তে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন পুরো ২০০ একর সরকারি খাসজমি নিজেদের জিম্মায় নিয়ে সব পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পর এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনা কমে গিয়ে শান্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষও।

তবে প্রশাসনের এ পদক্ষেপে দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ খুশি হলেও ক্ষুব্ধ হয়েছে কিছু প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ রয়েছে, তারা আবারো সরকারি জমি দখলের নানা পাঁয়তারা করছে। জমিতে পুঁতে রাখা লাল নিশান রাতের আঁধারে তুলে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। 

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বিপুল পরিমাণ সরকারি ভূমি পুনরায় বেদখল হতে দেওয়া হবে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এ বিরোধে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন, বর্তমানে বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী একই ভূমিকা পালন করছে। তারাই অবৈধভাবে লোকজনকে জমি বরাদ্দ দিয়ে চাষাবাদ, খামার ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলে। ফলে এলাকাজুড়ে সারাবছরই বিবাদ-বিরোধ লেগেই ছিল।

নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, “খাসজমি নিয়ে বিরোধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। শান্তির স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জমিগুলো সরকারের জিম্মায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শান্তিপ্রিয় মানুষ এটি সমর্থন করেছে, আর অবৈধ দখলদাররাই এর বিরোধিতা করছে।’’

ছাতিরচর গ্রামের শরাফত আলী (৬০) বলেন, ‘‘এই অশান্তি ভালো লাগছিল না। সরকার খাসজমি উদ্ধার করে শান্তি ফিরিয়েছে।” 

বেয়াতিরচরের মো. শহীদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, “এতদিন জমিগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মনে করতাম। এখন বুঝেছি এগুলো খাসজমি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।”

নিকলীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সরকারি জমি রক্ষায় গত ২৫ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর সহায়তায় লাল পতাকা পুঁতে জমি সরকারের দখলে নেওয়া হয়। কেউ পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা খাসজমি দখল করে বাণিজ্য করছিল। তা বন্ধ করা হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে প্রশাসনের ভালো কাজ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”