সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা

দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২ থেকে ৩ টাকা। সরু চালের জন্য প্রসিদ্ধ এই মোকামে চালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। নতুন বছরের শুরুতেই চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মিলাররা বলছেন, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। যদিও প্রশাসন বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বাসমতী চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯৪ টাকা, যা আগে ছিল ৯২ টাকা। মিনিকেট চালের দাম বেড়ে ৭৪ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ৭৭ টাকায়। কাজললতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৬ টাকা। আটাশ চাল ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, আর মোটা চাল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়।

পৌর বাজারের চাল বিক্রেতা মামুনুল হক বলেন, চালের বাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল ছিল। এখনো পর্যাপ্ত চাল আছে। উৎপাদিত চালও আছে। বিশেষ করে এখন সিজেন। মিলাররা বলছেন, তাদের ধানে প্রতি মণে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন যে চাল বের হচ্ছে তার দাম মিলাররা বেশি চাচ্ছেন।

আরেক বিক্রেতা বিপ্লব হোসেন বলেন, ভরা মৌসুমেও চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা খুব বিরক্ত হচ্ছেন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার যেন দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, চালের দাম কেন বেড়েছে সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। পাইকারিতে দাম বাড়ায় তাদেরও বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে চালের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভ্যান চালক রইচ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম এমনিতে বেশি। এর মধ্যে, চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছি।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ধান কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। যার প্রভাব চালের দামে পড়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে চালের দাম বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার একটি ভূমিকা আছে। সে কারণে আমরা এটি নিয়ে খুব তৎপর। আমি চালকল মালিকদের নিয়ে একটি সভা করেছি। সেখানে জেলার সকল চালকল মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রতি আমাদের যে নির্দেশনা কোনোভাবেই চালের দাম বাড়ানো যাবে না। যদি কোনোভাবে তারা ধান বা চালের দাম বাড়ায় তাহলে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করব।