ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে স্ত্রী ও বন্ধুকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান আরিফুল ইসলাম। তাদেরকে আটক করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। আমগাছে বেঁধে রাতভর ঠান্ডা পানি ঢেলে করা হয় নির্যাতন। এর পর সকালে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দেন আরিফুল ইসলাম।
এসব ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৫ হানুয়ারি) রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার কুন্দিপুর গ্রামে।
নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ও আরিফুল ইসলামের বাবা আশাদুল ইসলাম এবং এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন কুন্দিপুর স্কুল পাড়ার বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের স্ত্রী আসমা খাতুন (২৫) ও একই গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে স্বপন (২৮)। বুধবার রাত ২টার দিকে আরিফুল ইসলাম ঘুম থেকে জেগে দেখেন, তার স্ত্রী পাশে নেই। এ নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি পাশের ছাপড়া ঘরে স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বপনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদেরকে আটক করেন। এরপর এলাকাবাসী তাদেরকে বাড়ির উঠোনের আমগাছে দড়ি দিয়ে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। আরিফ তার বন্ধু স্বপনের মাথার চুল ন্যাড়া কেটে দেন। এর পর রাতভর তাদের গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়।
দর্শনা থানার ওসি বলেছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কারো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। কাউকে মারধর করা, চুল কেটে অপমান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আদালতের মাধ্যমে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল বলেছেন, শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলে দেশে আইন ও আদালত রয়েছে। সামাজিকভাবে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে চুল কেটে দেওয়া বা মারধর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা চাইলে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।