দিনাজপুরের হাকিমপুরে গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার চারজন কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি দিনাজপুরের হাকিমপুর সিভিল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা (আবেদনকারী অন্য প্রার্থীরা)।
মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সুপারিনটেনডেন্ট, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাশেদুজ্জামান লিফাত, নিরাপত্তাকর্মী শাকিল আহমেদ, নৈশপ্রহরী মিনহাজ হোসেন ও আয়া মোস্তারী আক্তার মিতুসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর হাকিমপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় চাকরির জন্য মামলার বাদী আসাদুজ্জামান তামিম নৈশপ্রহরী পদে, মৌসুমী আকতার আয়া পদে, সাজ্জাদ হোসেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ও আব্দুল ওয়াজেদ পারভেজ নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেন। আবেদন করার পর থেকে ১ নম্বর বিবাদী মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বিভিন্ন লোক মারফত তার সঙ্গে বাদীদের (আবেদনকারী প্রার্থী) দেখা করতে বলেন। একপর্যায়ে সভাপতির সাথে দেখা করলে তিনি বাদীদের বলেন, চাকরি পেতে হলে প্রত্যেককে ১৫ লাখ করে টাকা দিতে হবে। এসময় বাদীরা তার মুখে (সভাপতি) টাকা দাবির কথা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে সভাপতি বাদীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন, “টাকা না দিলে চাকরি হবে না। টাকা দাও, চাকরি নাও।”
মামলায় বাদীরা আরো উল্লেখ করেন, কিছুদিন পর নিয়োগ নির্বাচনি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়ার পর দেখি, ১ নম্বর বিবাদীর বাড়ির পাশ্ববর্তী মনসাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। বিষয়টি নিয়ে বাদীরা নিয়োগ পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একাধিকার ১ নম্বর ও ২ নম্বর বিবাদীকে বললে বাদীদের ভয় দেখানো হয় এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার হুমকি দেন। এভাবে তারা বাদীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। এমনকি ৮ থেকে ১১ নম্বর বিবাদীকে (অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত) অন্য রুমে বসিয়ে ১ নম্বর বিবাদী (সভাপতি) পরীক্ষার আগের রাতে ওই বিবাদীদের কাছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন এবং ইচ্ছামতো বিবাদীদের পক্ষে ফল তৈরী করে অবৈধ ও বেআইনিভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আসাদুজ্জামান তামিম, মৌসুমী আকতার, সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল ওয়াজেদ পারভেজ বলেছেন, মাদ্রাসার সভাপতি নিয়োগ বাণিজ্য করে তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা এই নিয়োগ পরীক্ষা মানি না। এটা অবৈধ, বিধিবহির্ভূত ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা স্বচ্ছতার সাথে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোজাহার আলী বলেছেন, গত ২০ ডিসেম্বরে আমার মাদ্রাসার চারটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা হয়। কিন্তু, সভাপতি মাদ্রাসায় না নিয়ে অন্য একটি স্কুলে পরীক্ষা নেন। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। প্রতিটি পদে ১৫ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি এই নিয়োগ মানি না। যারা নিয়োগ পেয়েছে, তাদের মাদ্রাসায় যোগদানের অনুমতিও দিইনি। হাজিরা খাতায় সই করতে দিচ্ছি না। আমি চাই, সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা হোক।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা ঘুষ বাণিজ্য হয়নি। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সভাপতি পদে থাকব না।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক কুমার বিক্রম বলেছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।