সারা বাংলা

উত্তরায় আগুনে নিহত বাবা-ছেলেসহ ৩ জনের পাশাপাশি দাফন

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের তিনজনই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বাবা ও ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টায় জানাজা শেষে বাবা-ছেলেসহ তিন জনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িপাঁচাশি গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. হারিছ উদ্দিন (৫২) ও তার ছেলে হিসান উদ্দিন রাহাব (১৭) এবং ভাতিজি রোদেলা (১৪)। রোদেলা হারিছ উদ্দিনের ছোটভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে। 

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারিছ উদ্দিন ও শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় ফলের ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসার সুবাদে হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং শহীদুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে উত্তরার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

শুক্রবার সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শহীদুল ইসলাম, তার স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে উমর উদ্দিন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করে। অনেকেই নিহতদের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, “হারিছ উদ্দিন খুব ভালো ছেলে ছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কল্পনাও করতে পারিনি। বাবা-ছেলেসহ একসঙ্গে তিন জন মারা যাওয়ায় পরিবারটির অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”

স্থানীয় বাসিন্দা রবিন বলেন, “এ ঘটনায় পুরো গ্রাম যেন মুহূর্তেই শোকস্তব্ধ হয়ে গেছে।” 

ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম পিয়াস বলেন, “একসঙ্গে বাবা–ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু আমাদের পুরো ইউনিয়নকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”