কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে মুফতি আমির হামজা লিখেছেন, ‘‘একটু জানিয়ে রাখি, গতকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তত ইনশাআল্লাহ। আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো, আমার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়াতে যেই ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি, সেটা প্রতিষ্ঠিত কইরেন এবং আমার ৩ শিশু কন্যা সন্তানকে একটু দেখে রাইখেন।’’
হুমকির বিষয়ে মুফতি আমির হামজা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ঈশ্বরদীর বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব একটি টেলিভিশন টকশোতে সরাসরি হুমকিসূচক কথা বলছেন এবং ফেসবুকে কয়েকটি স্ট্যাটাস পেয়েছি। এরপর মনে করেছি, জিডি করব। তবে আমি একটু ব্যস্ত আছি। এ জন্য থানায় যাওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও আরো কিছু তথ্য আগে হাতে আসুক। জিডি করব। তারপর সংবাদ সম্মেলন করব। আপনাদের ডেকে সেখানে বিস্তারিত কথা বলব।’’
বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘রিটার্নিং কর্মকর্তা পরশুদিন (মঙ্গলবার) সবাইকে ডেকেছেন। নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলবেন। আমরা সাতজন প্রার্থী। দেখা যাক তারা কী বলেন? অনেক কিছু খোলামেলা কথা হবে সেখানে।’’
মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘‘পুরনো বিষয় নিয়ে যেভাবে রাজনীতি শুরু হয়েছে, এটা কাম্য না। এটা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বহিঃপ্রকাশ। তিন বছর আগের যে বিষয়, উনি (আমির হামজা) দুঃখ প্রকাশ করেছেন; তখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তিন বছর পরে এসে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্য উনারা এ কাজ করছেন। এই ধরনের নোংরা রাজনীতির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘হত্যার হুমকির বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন বলেছে, তাদের সতর্ক দৃষ্টি আছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’’
পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে জামায়াতে ইসলামী আইনগত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান এ নেতা।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আমির হামজার দেওয়া ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কোকোকে নিয়ে অপমানসূচক মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে।
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুফতি আমির হামজা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময় একটি বিষয় বুঝাতে গিয়ে উদাহরণটা দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি।’’
তিনি আরো লেখেন, ‘‘পুরনো বক্তব্য যারা সামনে এনে নির্বাচনকালীন সময়ের বক্তব্য বলে চালানোর ষড়যন্ত্র করছেন, তারাও নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তিকেও ছাড় দিলেন না।’’