সারা বাংলা

কুমারখালীতি তিন বছরে ১২২টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার প্রায় ১১টি ইউনিয়নে গত তিন বছরে পল্লী বিদ্যুতের ১২২টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রান্সফরমার ও তার চুরির ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রান্সফরমার ও তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে ৩১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। যার মধ্যে ডিসেম্বরে একটি চুরি হয় বাঁশগ্রাম থেকে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মালামাল ও চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগর ইউনিয়নের গৃহবধূ জোহুরা খাতুন বলেন, “ট্রান্সফরমার চোররা খুলে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে সমস্যা হয়। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।”

একই ইউনিয়নের কৃষক সাবের আলী বলেন, “মাঠে সন্ধ্যার পর একেবারেই লোকজন থাকে না। এই সুযোগে চোরচক্র সহজেই বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে তার ও ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।”

চাঁদপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, “সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পড়ালেখার অনেক চাপ। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ালেখা করতে হয়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।”

যদুবয়রা ইউনিয়নের অটোরিকশা চালক হামিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চলে। বারবার ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হওয়ায় নিয়মিত রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। ফলে ঠিকমতো অটোরিকশা চালাতেও পারছি না, বাড়তি আয়ের কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলে পেট ভরে না।”

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “কুমারখালী উপজেলার কিছু গ্রাম থেকে ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হয়েছে।  সরকারি নীতিমালা অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে দুই চোর গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মালামাল ও চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। চোররা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শিগগিরই বাকি চোরদের আইনের আওতায় আনা হবে।”