দখল দূষণে ক্রমশই আয়তন কমে জৌলুস হারিয়ে ছোট হয়ে পড়ছে চাঁদপুরের এক সময়ের খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী। তবে এবার নদীর সেই চিরচেনা রূপ ফেরাতে মহাকর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এরমধ্যেই নদীটির শহরের মোলহেড হতে শাহরাস্তি পর্যন্ত সার্ভে কাজ শেষ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর দুপাড়ের ১৪৪ কিলোমিটার নদী এলাকার দখল দূষণ ঠেকাতে কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সার্ভে কাজ ২০২৫-এর শেষ দিকে এসে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে শহরের মোলহেড হতে গাছতলা পর্যন্ত ৭৩৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।
পৌর এলাকার দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে ১৫টি। বৈধ ৩টি ডকইয়ার্ড বাদে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ডকইয়ার্ডও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অবৈধ স্থাপনার তালিকার কাজ চলবে শাহরাস্তি পর্যন্ত। আর এর পরেই বরাদ্দ সাপেক্ষে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নদী রক্ষায় কাজ করা আন্দোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মুজিবুর রহমান বলেন, “ডাকাতিয়া নদীর দখল দূষণ ঠেকানো গেলে এসব অঞ্চলে অনেক ব্যবসায়িক কেন্দ্রসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। যা এই জনপদের মানুষের জীবন যাত্রার মানকে সমৃদ্ধ করবে। তাই কাজটা যেন দ্রুত হয় সেদিকে সংশ্লিষ্টরা নজর দিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “নদী রক্ষা ও ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে ডাকাতিয়া নদীর নাব্যতা রক্ষার্থে আমরা ব্যাপক কাজ চলমান রেখেছি। তবে অর্থ বরাদ্দের অভাবে কাজে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে নদী পুনঃখনন কাজ করা হবে। তখন আর্থ সামাজিক উন্নয়নে মানুষের কাঙ্খিত আশা পূরণ হবে।”