সারা বাংলা

৪ শতাংশ জমির জন্য বাবার লাশ উত্তোলন

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দাফনের প্রায় ৬ মাস পর কবর থেকে সোহেল শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

সোহেল শেখ একই এলাকার মৃত শাহাদত শেখের ছেলে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

মামলার বাদী ও মারা যাওয়া ব্যক্তির ছেলে সোহানুর রহমানের অভিযোগ, চার শতাংশ জমি লিখে নিয়ে তার দাদি নুরজাহান, ফুফু জরিনা খাতুন, ফুফা আজাহার ও দুই ফুফাতো ভাই জীবন ও শিপন যোগসাজস করে তার বাবাকে বিষাক্ত কিছুর মাধ্যমে হত্যা করেন। পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জমির মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা। 

নিহতের ফুফা মো. আজাহার দাবি করেন, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড ও ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার ছেলে সোহানুর ও স্ত্রী স্বপ্না ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। তারা সোহেলের খোঁজ খবর নিতেন না। ফলে সোহেল ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিটুকু তার মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মারা যাওয়ার আগে। মূলত সেই জমির জন্য সোহানুর হত্যার অভিযোগ তুলে কবর থেকে তার বাবার মরদেহটি উত্তোলন করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, সোহেল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে তিনি স্ট্রোক করে প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হন। ঢাকায় দুইমাস চিকিৎসা শেষে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্ত্রী স্বপ্না ও ছেলে সোহানুর রহমান। ২০২৫ সালের ৬ জুন সকালে মারা যান সোহেল। ওইদিন স্বজন ও স্থানীয়রা তার মরদেহ কালোয়া শেখপাড়া কবরস্থানে দাফন করেন।

এ ঘটনায় ১৬ জুলাই শারীরিক নির্যাতন ও বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী আমলী আদালতে মামলা করেন সোহেলের ছেলে সোহানুর রহমান। মামলায় সোহেলের মা ও বোনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্তের দাঁয়িত্ব পান কুষ্টিয়ার পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নি.) মো. কামাল হোসেন। তিনি তদন্তের স্বার্থে ২৭ আগস্ট কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। ৭ ডিসেম্বর আদালতের মরদেহটি উত্তোলনের আদেশ দেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী সোহানুর রহমান বলেন, “বাবা অসুস্থ হলে তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করছিলাম। প্রতিমাসে বিকাশের মাধ্যমে খরচ পাঠাতাম। আমার দাদি নুরজাহান, ফুফা আজাহার, ফুফু জরিনা খাতুন, ফুফাতো ভাই জীবন ও শিপন চার শতাংশ জমির জন্য যোগসাজশে বাবাকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন। হত্যার পর আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দাফন কাজ থামিয়ে রেখেছিলাম। পরে ঢাকা থেকে এসে সবাই মিলে দাফন করা হয়।”

তিনি আরো বলেন, “মাত্র ৬ লাখ টাকার জমির জন্য আসামিরা বাবাকে হত্যা করেছে। সঠিক বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (নি.) কামাল হোসেন বলেন, “বাদী তার বাবাকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিল। মামলার তদন্তের স্বার্থে মরদেহটি উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাভিদ সারওয়ার জানান, “আদালতের নির্দেশনায় সোহেল শেখ নামে এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পর তা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির কবর সনাক্ত করেন তার ছেলে সোহানুর রহমান।”