ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে ১৯ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. শহিদ হোসেন চৌধুরী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
জেলার চারটি আসনের মধ্যে শুরু থেকে আলোচনায় রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন। এ আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তার প্রতীক ট্রাক।
নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও এ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। তিনি পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা ভোটের প্রচার শুরু করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, নুর এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এছাড়া এ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আবু বকর সিদ্দিক হাতপাখা প্রতীকে মাঠে রয়েছেন।
ট্রাক ও ঘোড়ার দৌড়ের মধ্যে নীরবে ভালো করতে পারেন দাঁড়িপাল্লার মুহাম্মদ শাহ আলম। ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরা মূলত বিএনপির ভোটের উপর নির্ভর করবে। সেখানে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এই সুযোগে বাজিমাত করতে পারে দাঁড়িপাল্লা। এছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি পটুয়াখালী-৩ আসনের দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার কারণে নেতাকর্মীরা দ্বিধায় পড়ে গেছেন।
বাকি তিনটি আসনে যে সকল প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা হলো পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ধানের শীষ, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর ওহাব মিনার ঈগল, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফিরোজ আলম হাতপাখা, জাসদ প্রার্থী গৌতম চন্দ্র শীল মোটরগাড়ি (কার), জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মান্নান লাঙ্গল ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিম ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপি জোট প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার ধানের শীষ, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মালেক হোসেন হাতপাখা, আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন ঈগল, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের প্রতীক ট্রাক।
পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন ধানের শীষ, ১০ দলীয় জোট প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ দেয়াল ঘড়ি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান হাতপাখা এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রতীক বরাদ্দের সভায় পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহীদুজ্জামান মুন্সীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নির্বাচনি আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা।
দশমিনা সদর বড় ডালিম গ্রামের ভোটার শাহ আলম সিকদার বলেন, ‘‘আমাদের আসনে ট্রাক ও ঘোড়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আবার দুইজনের রেশারেশিতে জামায়াতের প্রার্থী সুবিধা পেতে পারে। আমরা এখন ভোট নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেছি। শেষ কথা হলো, ভোটটা পঁচাতে চাই না। যাকে ভোট দেবো, তিনি জিতলেই হলো।’’
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের ভোটার রহমান মিয়া বলেন, ‘‘আমাদের এলাকার দুই উপজেলার বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।’’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রচারে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।’’