দুই সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে তিনজন জনপ্রতিনিধিকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেবে জনগণ। এই তিনটি আসনের একাধিক প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন ভোট প্রত্যাশায়। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ে এসে ভোটের মাঠে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছেন নারী ভোটাররা। যাদের ঘিরেই ঘুরছে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের হিসাব-নিকাশ।
এ জেলায় পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২৩৩১ জন। এই সূক্ষ্ম ব্যবধানের কারণে আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটাররা একটি শক্তিশালী ‘সুইং ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হবেন। সুশীল সমাজের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় জেন্ডার-সেনসিটিভ ইশতেহার এবং নারী ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা বা ভোটার টার্নআউট ম্যানেজমেন্ট হবে বিজয়ের অন্যতম মূল চাবিকাঠি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৩, নারী ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন।
এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৬২ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন। এ আসনটিতে পুরুষের চেয়ে ১৩৫৬ জন বেশি নারী ভোটার রয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনটিতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২১ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭২ জন। এ আসনটিতে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ১৮৫১ জন বেশি। এছাড়া মানিকগঞ্জ-৩ আসনে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৪ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২৩ জন। এ আসনটিতে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩০৭১ জন বেশি। তবে তিনটি আসনে পোস্টাল ভোটার পুরুষ ১১ হাজার ৭৪৬ জনের বিপরীতে নারী ভোটার রয়েছে ২ হাজার ২৪৯ জন।
স্থানীয়রা বলছেন, কর্মক্ষেত্র ও পেশাগত বাস্তবতার কারণে পোস্টাল ভোটে পুরুষদের অংশগ্রহণ বেশি হলেও মূল ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
নারী সংগঠক বিলকিস রেজা পরাগ বলেন, “ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা। যদি ভোটের দিন কেন্দ্রের আশপাশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় এবং নারীরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তাহলে নারী ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নারী ভোটাররা নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ করতে চান। সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইন্তাজ উদ্দিন বলেন, “মানিকগঞ্জে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ও আনুপাতিক হার প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে নারী ভোটাররা একটি বড় ফ্যাক্টর বা ‘সুইং ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে যদি নারী ভোটারদের উপস্থিতি বা টার্নআউট তুলনামূলকভাবে বেশি হয়, তাহলে তা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের উচিত নারীবান্ধব কর্মসূচি ও বাস্তবসম্মত ইশতেহার দিয়ে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বিপিএম বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ শান্তিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের আরো দপ্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবে। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সব ধাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”