চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে দেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রাম দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এখানে নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সারাদেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে।”
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহাসমাবেশে বক্তব্যে তারেক রহমান চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখানেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। চট্টগ্রামের মাটির সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।”
তারেক রহমান দাবি করেন, “গত কয়েক বছরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়, এমন পরিবর্তন যা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবে, স্বাধীনভাবে ব্যবসা করা, চাকরি করা এবং নিশ্চিন্তে চলাফেরা করার সুযোগ তৈরি করবে। একইসঙ্গে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার মতো পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি কেবল সমালোচনার রাজনীতি করতে চায় না। জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে চায়। দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। তাই কর্মসংস্থান তৈরি করাই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য।”
শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। বড় বড় হাসপাতালের ঘোষণা নয়, গ্রামাঞ্চলের মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চায় বিএনপি। এজন্য এক লাখ হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার সুযোগ তৈরি না হলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের সব পরিবারের নারীদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের মূল শক্তি কৃষক। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সরকার গঠন করতে পারলে পর্যায়ক্রমে সব কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।”
দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা ও খাল-নদী দখল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল ও নদীনালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে খাল কাটার কর্মসূচি চালু করা হবে।”
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ নানা সেবা নিজ এলাকায় বসেই পাবে। সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।”
তারেক রহমান বলেন, “পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। বিএনপি সরকার গঠন করলে কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যেন সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য ছাড়’ নীতি থাকবে। দুর্নীতি যেই করুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। অপরাধীর পরিচয় দলীয় পরিচয়ে নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই বিচার হবে। দলের ভেতর থেকেও কেউ অনৈতিক কাজে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।”
শেষ পর্যায়ে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হলে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”