বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে নানা ধরনের মতামত প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। তবে, প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
জেলা প্রশাসক জানান, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি আবেদন শুক্রবার তার বাংলোতে আসে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম যেহেতু জেলার বাইরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তাই ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত।
আরো পড়ুন: কারা ফটকে পাঁচ মিনিট স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখলেন জুয়েল
তিনি আরো জানান, আবেদনকারীদের বিষয়টি জানানো হলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, গত ২৩ জানুয়ারি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক তাকে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। সেখানে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী, যেই কারাগারে আসামি বন্দি আছেন, সেখানেই আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। মাত্র তিন মিনিটের জন্য স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয় সাদ্দামকে।
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে জুয়েলের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। নিহতের পরিবারের ভাষ্য, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।